শ্মশানের দেশে তুমি আসিয়াছ

— বহুকাল গেয়ে গেছ গান 

সোনালি চিলের মতো উড়ে উড়ে আকাশের রৌদ্র আর মেঘে, 

লক্ষ্মীর বাহন যেই স্নিগ্ধ পাখি আশ্বিনের জ্যোৎস্নার আবেগে 

গান গায় — গুনিয়াছি রাখিপূর্ণিমার রাতে তোমার আহ্বান 

তার মতো; আম চাঁপা কদমের গাছ থেকে গাহে অফুরান 

যেন স্নিগ্ধ ধান ঝরে.. অনন — সবুজ শালি আছে যেন লেগে 

বুকে তব; বল্লালের বাংলায় কবে যে উঠলে তুমি জেগে; 

পদ্মা, মেঘনা, ইছামতী নয় শুধু — তুমি কবি করিয়াছ স্নান 


সাত সমুদ্রের জলে, — ঘোড়া নিয়ে গেছ তুমি ধূম নারীবেশে 

অর্জুনের মতো, আহা, — আরো দূর স্মান নীল রূপের কুয়াশা 

ফুঁড়েছ সুপর্ন তুমি — দূর রং আরো দূর রেখা ভালোবেসে; 

আমাদের কালীদাহ — গাঙুড় — গাঙের চিল তবু ভালোবাসা 

চায় যে তোমার কাছে — চায়, তুমি ঢেলে দাও নিজেরে নিঃশেষে 

এই দহে — এই চুর্ণ মঠে — মঠে — এই জীর্ণ বটে বাঁধো বাসা। 


কবি-জীবনানন্দ দাশ

আমার লিখাটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা আপনি আমাকে জানাতে পারেন। আপনার একটা মতামত আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা প্রধান করে। ধন্যবাদ।

Previous Post Next Post