অপরাধী


প্রভাবশালী পাপীর কাছে পাপও যেন এক ধরণের 'গুণ'। যা তাকে চতুর, বুদ্ধিমান ও সফল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে । তার লোভকে বলা হয় 'দূরদৃষ্টি', তার অন্যায়ের নাম হয় 'নীতিনির্ধারণ'। মিডিয়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এমনকি অনেকসময় ফতোয়া দিয়েও তার অপরাধকে নানাভাবে বৈধতা দেয়। ইতিহাসও এমন পাপীদের অনেক সময় "পণ্ডিত", "নেতা" কিংবা "উদ্ধারকর্তা" হিসেবে চিহ্নিত করেছে শুধুমাত্র তাদের ক্ষমতার কারণে।

অন্যদিকে, যে নিরুপায় মানুষটি সত্য ও ন্যায়ের জন্য কণ্ঠ তোলে; তার সেই উচ্চারণই সমাজে হয়ে ওঠে অপরাধ। তাকে বলা হয় 'উস্কানিদাতা', 'বিভ্রান্ত', এমনকি 'রাষ্ট্রদ্রোহী' কারণ তার ক্ষমতা নাই। তার ন্যায়বোধ ক্ষমতার বিচারে 'উগ্রতা', আর তার প্রতিবাদ 'নৈরাজ্য' হিসেবে চিহ্নিত হয়। আইন, যা ন্যায়ের হাতিয়ার হওয়ার কথা, সেটিই তখন হয়ে দাঁড়ায় তার গলায় ফাঁসির দড়ি।

এই সমাজব্যবস্থায় ন্যায়ের মূল্য নেই, যদি না তার সাথে থাকে প্রতিপত্তি। আর অন্যায়ও হয়ে যেতে পারে প্রশংসনীয়, যদি তার পেছনে থাকে অর্থ, ক্ষমতা ও প্রচারযন্ত্র।

এই দ্বৈতনীতি শুধু একজন ব্যক্তির নয়, এ এক পচনশীল সভ্যতার প্রমাণ। যেখানে বিবেক মরে যায় চক্রান্তের নিচে, যেখানে প্রশ্ন করলেই মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর যেখানে পণ্ডিতের সংজ্ঞা নির্ধারিত হয় পুঁজি ও প্রভাব দিয়ে, জ্ঞান দিয়ে নয়।

আমরা কি তবে একটি এমন সমাজে বাস করছি, যেখানে ন্যায়ের জন্য কণ্ঠ তোলা মানেই ঝুঁকি নেওয়া? যেখানে সত্যের দাম নেই, আর সুবিধার নামই জ্ঞান?

আমার লিখাটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা আপনি আমাকে জানাতে পারেন। আপনার একটা মতামত আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা প্রধান করে। ধন্যবাদ।

Previous Post Next Post