আমি তোমার চোখের দিকে তাকায় না। মনেও করিনা, তবু যেন আমার চতুর্দিকে তুমি। নৈঃশব্দ্যের ভেতরেও যেন উচ্চারিত হয় এক স্বর: তুমি। জানি না, তুমি নিজের জ্যোতিতে উজ্জ্বল, না আমার অন্ধকারে প্রবেশ করেই জ্বলে উঠেছো। তুমি কি নিজেকে সাজিয়েছো, অগণিত তারকার মতো, আকাশের গায়ে আলপনা এঁকে? নাকি আমার ক্ষত, আমার ক্লান্তি, আমার ছায়াগুলোকেই তুমি পরিয়ে নিয়েছো অলংকারের মতো?
তোমার সৌন্দর্য কি তোমার? নাকি তুমি আমার হৃদয়ের কল্পনার আয়নায় দাঁড়িয়ে আছো, এমনভাবে যে তোমাকেই সত্য বলে মনে হয়?
আমি যখন হাঁটছিলাম একাকী, সময়ের নির্জন প্রান্তরে, হঠাৎ তুমি এসে দাঁড়ালে, একটি বৃক্ষের ছায়ার মতো। যে ছায়া শুধু গ্রীষ্মের উত্তাপে জন্ম নেয়, যার অস্তিত্ব তখনই ধরা পড়ে, যখন আমার দহন চরমে ওঠে।
তুমি কি তবে ছায়া?
তবে কি তুমি আমারই আগুনের প্রতিচ্ছবি?
তোমাকে কি আমি সৃষ্টি করেছি, আমার অভাব দিয়ে,
আমার প্রার্থনা দিয়ে?
নাকি তুমি এমনই ছিলে?
নির্বাক, নির্লিপ্ত! আর আমি কেবল তোমার দিকে তাকিয়ে
নিজেরই এক প্রতিবিম্ব খুঁজে বেড়াচ্ছি?
তুমি কি নিজেকে সাজিয়ে রেখেছো?
তোমার অস্তিত্বের মহিমায়, সৌন্দর্যের অতল প্রহরে। নাকি তুমি নিজেকে খুলে রেখে আমায় ঢেকে দিয়েছো
যেন আমার দৃষ্টির পাগলামী তোমাকে ছুঁয়ে ফেলতে না পারে?
তুমি কি পরম এক সত্তা?
না এক স্মৃতি?
না এক প্রেম, যে নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলে শুধু আরেকজনের আত্মায় আশ্রয় নিতে?
এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো নেই,
হয়তো দরকারও নেই।
তুমি হয়তো আছো, হয়তো ছিলে না কখনও।
তবু এই এক পংক্তি—
"তুমি কি নিজেকে সাজিয়ে রেখেছো, না আমায় ছায়া
দিয়ে বেঁধেছো?"
এটাই তোমার সবচেয়ে স্পষ্ট উপস্থিতি।
