জীবনের মূল্য বয়সেও নয়, অবস্থানেও নয়।
জীবনের মূল্য মানে কতটা সত্য নিয়ে তুমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারো— মৃত্যুর দড়ির ঠিক সামনে।
জীবনের মূল্য কী? এই প্রশ্নের উত্তর কখনো টাকার অঙ্কে, সম্মানের পদকে, বা সময়ের হিসেবে বাঁধা যায় না। জীবন তো শুধু শ্বাস নেওয়া নয়, তা এক সত্যের সন্ধান, সত্যের সঙ্গে একাত্মতার অন্তহীন যাত্রা।
আমরা ভুলে যাই, বয়স শুধু সময়ের পরিমাপ, কিন্তু জীবনের গভীরতা নয়। আর অবস্থান? সে তো সমাজের চোখে সফলতার এক অস্থায়ী সংজ্ঞা। কিন্তু যখন সব পরিচয় খসে পড়ে, সব অর্জন কেবল মাটির নিচে পচে যেতে থাকে, তখন জীবন কিসে দাঁড়িয়ে থাকে?
সত্যই তখন একমাত্ৰ আশ্ৰয় ।
সত্য কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়, তা এক জীবন্ত শক্তি। সত্যের পাশে দাঁড়ানো মানে নিজের ভয়ের মুখোমুখি হওয়া, নিজের দুর্বলতাকে জয় করা। যখন জীবন তোমাকে পরীক্ষা করে, যখন মৃত্যুর ছায়া তোমার দিকে এগিয়ে আসে, তখন একটিই প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ:
"তুমি কি সত্যের জন্য দাঁড়াবে, নাকি বেঁচে থাকার জন্য সত্যকে বিসর্জন দেবে?"
এই উত্তরেই লুকিয়ে আছে জীবনের সার্থকতা।
জীবনের পরীক্ষা আসে নীরবে। কখনো তা হয় বন্ধুত্বের নামে মিথ্যার সাথে আপোষ, কখনো ক্যারিয়ারের সিঁড়িতে অনৈতিক সুবিধার লোভ, কখনো নিজের বিবেকের কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে দেওয়ার প্রলোভন। প্রতিটি মুহূর্তে তুমি সিদ্ধান্ত নিচ্ছ তুমি কতটা সত্যের কাছে থাকবে ।
সত্যকে আঁকড়ে ধরা সহজ নয়। তা এক অদৃশ্য মৃত্যু, অহংকারের মৃত্যু, মিথ্যা আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু, সমাজের চাপানো পরিচয়ের মৃত্যু। কিন্তু এই মৃত্যুর মধ্যেই আত্মার উত্থান, বিবেকের পুর্নজাগরণের মধ্য দিয়ে ফোটে নতুন জীবন।
সত্যের পথ কখনো আরামদায়ক নয়। তা পাথরে ঠোক্কর খাওয়া, একাকীত্বের কাঁটা, এমনকি রক্তের দাগে ভরা হতে পারে। তবু সেই পথেই লুকিয়ে আছে মুক্তি। সেই পথেই জীবন তার প্রকৃত অর্থ খুঁজে পায়।
জীবনের মহত্ত্ব কত বছর বেঁচে থাকলে তা নয়, কত উচ্চতায় পৌঁছালে তাও নয়। জীবন তখনই অমর, যখন তুমি মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়ে, ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলো: "তবুও, আমি সত্যকে ত্যাগ করব না।"
সত্যের পাশে দাঁড়াও। কারণ তুমি যখন সত্যের জন্য দাঁড়াবে, তখন জীবন তোমাকে অমর করে দেবে—চেতনার ইতিহাসে, সময়ের অতীতে।
