গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা

ভেতরের সে অচেনা আর্তনাদ, যা সবাই 'গ্যাস্ট্রিক' বলে ভুল করে হয়তো ভাবছেন, এ আর এমন কী? স্রেফ একটা সাধারণ বুকের ব্যথা। যে শুনলো, সেই হাসিমুখে বলল, "আরে বাবা, একটু বেশি তেল-ঝাল খেয়েছো, অ্যাসিড হয়েছে, গ্যাস্ট্রিক।" কিন্তু শুধু আমিই জানি, ভেতরের এই ব্যথাটা কোনো আলগা গ্যাস বা মশলার জ্বালা নয়। এ যেন ঠিক গভীর কোনো ভার, যা বুকের পাজর আঁকড়ে ধরে আছে ।

যখন যন্ত্রণাটা শুরু হয়, মনে হয় যেন কেউ ভেতর থেকে শক্ত করে চেপে ধরেছে। শ্বাস নিতে গেলেও একটা সূক্ষ্ম কাঁটা বিধে যায়। রাতে পাশ ফিরতে ভয় লাগে, দিনের আলোতেও মনে হয় এই বুঝি সব শেষ! আর এই একাকীত্বটা সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় —যখন আমি আমার মনের সমস্ত ভয় আর অস্থিরতা নিয়ে কারও কাছে যাই, আর তারা শুধু একটা হতাশাজনক প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দেয়—অ্যান্টাসিড আর জলের বোতল! এই ব্যথাটা হয়তো আমার শরীরের কোনো অজানা সংকেত, অথবা হয়তো মনের বোবা কান্নার প্রতিচ্ছবি। এই ভারটা নিয়ে হাসিমুখে হেঁটে চলেছি দিনের পর দিন, কারণ আমার আসল আর্তনাদ শোনার মতো ধৈর্য বা সহানুভূতি কারও নেই। কেউ বুঝলো না—আমার এই ব্যথাটা পাকস্থলীর নয়, এটা আরও গভীর, আরও ব্যক্তিগত।

তাই আজ এই ক্যাপশনটা তাদের জন্য, যারা ভেতরের নীরব যন্ত্রণা লুকিয়ে একটা স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে, আর বাইরে থেকে সবাই তাদের বলছে: "গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা!"

আমার লিখাটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা আপনি আমাকে জানাতে পারেন। আপনার একটা মতামত আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা প্রধান করে। ধন্যবাদ।

Previous Post Next Post